Movie_Name: Charlie
Industry: Malalayam
Genre: Drama, Musical, Thriller
IMDB_Rating: 7.9
Personal_Rating: এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা মুভিগুলোর একটা। রেটিং দিয়ে আর পাপ বাড়াতে চাই না!!
Spoiler_Alert
মুভিটা নিয়ে কোনো রিভিউ করব না। শুধুই নিজের ব্যক্তিগত কিছু কথা।
জীবনে সুখ ও শান্তির অভাববোধ করে আমরা বহু মানুষই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি, নিজের প্রতি একটা অন্য ধরণের অনীহা তৈরি হয়। “চাওয়া-পাওয়া”র খেলার গোলকধাঁধায় আটকা পড়ে যাওয়া অনেক মানুষই মনে করে যে সে ভালো নেই। কিন্তু জীবনে শান্তি বা আনন্দ যে কত সহজ উপায়েই পাওয়া সম্ভব, সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এই মুভিতে। জীবনে হতাশা কাটাতে মোটিভেশনাল ভিডিও অনেকেই দেখে, কিন্তু সেগুলো সাময়িকভাবে মানুষের দুঃখ-কষ্টকে ভুলিয়ে রাখলেও পরবর্তীতে “যে লাউ, সেই কদু” অবস্থা বিরাজ করে প্রায় সবারই। কারণ সেগুলো আমাদের এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে গেলেও অন্তরের অনুভূতি জাগাতে সক্ষম হয় না। হুমায়ুন আহমেদের “হিমু” চরিত্রটির সঙ্গে সিংহভাগ সাদৃশ্যমান এই মুভির “চার্লি” চরিত্রটি যেন দর্শকের হৃদয়ে গিয়ে নাড়া দেবে, তৈরি করবে এমন এক স্থায়ী নির্মল অনুভূতি যা শত মোটিভেশনাল ভিডিও-ও পারে না।
জীবন বেশিরভাগ মানুষই যে ভ্রান্ত ধারণায় বাস করে। কিন্তু এই ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে কেউই সম্পূর্ণ সুখী হতে পারে না। অথচ আমরা জীবনে যেসব জিনিস পেতে চাই, সেসব আপাততদৃষ্টিতে বহুমূল্যবান জিনিসগুলোই বরং আমাদের জীবনে সবচেয়ে কম প্রয়োজনীয়। আমাদের জীবনে আসলে যেটা দরকার, সেটা কখনোই অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের জীবনের সম্পূর্ণ আলাদা ও বাস্তব অর্থ প্রকাশ পেয়েছে এই মুভিতে।
এই প্রতিযোগিতার ও প্রযুক্তির যুগে আমরা বেশিরভাগ মানুষই নিজেদেরকে যন্ত্র বানিয়ে ফেলছি। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের হতাশা ও বিষণ্ণতা আরো বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের প্রকৃতি কিংবা সুন্দরের প্রতি যে ভালোবাসা, সাহিত্যপ্রেম- সবই পর্যায়ক্রমে রূপ নিচ্ছে অন্য নেতিবাচক কিছুতে। প্রকৃতির প্রতি মানুষের একাত্মতা, সাহিত্যপ্রেম, সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং তার মধ্যে জীবনের সুখ অনুসন্ধান করাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে এই মুভিতে।
প্রকৃত অর্থে আমাদের জীবনের আসল সুখ নিহিত আছে আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর মধ্যেই। আমরা যদি কোনোভাবে তাদের একজনের মুখে হাসি ফোটাতে পারি, তখন যে ভালোলাগা কাজ করে তা বহুমূল্য অর্থের বিনিময়েও অর্জন করা সম্ভব নয়। অথচ আমরা স্বার্থপরতার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের শুধুই অসুখী করছি, নিজেদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করছি। যে সমাজে সবার মুখে হাসি বিদ্যমান, সেই সমাজে কোনো পার্থিব জিনিসের অভাবই কাউকে অসুখী করতে পারে না!!
